অধ্যাপক ডাঃ আকরাম হোসেন, অধ্যাপক, মাইক্রোবায়োলজি
২১ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে চট্টগ্রামে স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন ডেকেছিল মত বিনিময়ের জন্য। আমাকে এপোলো ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছিল। মোটাদাগে যে প্রস্তাব গুলো পেশ করেছি তা প্রশংসিত হয়েছে। আপনাদের জ্ঞাতার্থে তা পেশ করছি। পুরো প্রস্তাবটি কমিশন এর কাছে হস্তান্তর করেছি।
১। স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়াতে হবে এবং তার যথাযথ ব্যবহার নি:শিচত করতে হবে। ২০২৪-২৫ সালে স্বাস্থ্য খাতে জাতীয় বাজেটের মাত্র ৫.২ ভাগ এবং জিডিপির ০.৭% বরাদ্দ ছিল। অথচ আফ্রিকার দেশগুলোতে এই খাতে ১১.৫ ভাগ।
২। আপামর জনসাধারনকে সম্পৃক্ত করে নাগরিকদের জন্য মান সম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নি:শ্চিত করতে হবে।
৩। মেডিক্যাল শিক্ষার (ডাক্তার/নার্স/প্যারামেডিক্স) বর্তমান মানকে উন্নয়ন করার লক্ষে পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।যেহেতু নানাবিধ কারনে অনেক মানহীন প্রতিষ্ঠান অনুমোদন পেয়েছে সেজন্য সব প্রতিষ্ঠান থেকে ইউনিভার্সিটির ডিগ্রী অর্জন করলেও লাইসেন্সিং পরীক্ষা দিতে হবে বিএমডিসি/বিএনসি/স্টেট মেডিকেল কাউন্সিল এর অধীনে। এসব পরীক্ষা পাশের পরেই রেজিস্ট্রেশন দেয়ার ব্যবস্থা করার নিয়ম চালু করতে হবে।
৪। সরকারি/ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে / বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকল ডাক্তারদের বাইরে প্র্যাক্টিস বন্ধ করে ইন্সটিটিউশনাল প্র্যাক্টিস চালু করতে হবে। এ সমস্ত প্রতিষ্ঠানে সবরকম পরীক্ষা নীরিক্ষার ব্যাবস্থা করতে হবে (প্রতিষ্ঠান ভেদে সেটা জটিল পরীক্ষা নীরিক্ষা আউট সোর্সিং এর মাধ্যমে রেফারেল সেন্টার থেকে করা যেতে পারে )। এর ফলে কথিত কমিশন প্রথার অবসান হবে এবং টেস্টের খরচ কমবে।
৫। কার্যকর রেফারেল সিস্টেম প্রবর্তন করতে হবে।
৬। প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের দলীয় রাজনীতির উর্ধে রাখার পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।
৭। মান স্বম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নি:শ্চিত করনের জন্য স্বাধীন Accreditation Body গঠন করতে হবে।
৮। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবার মূল্য সরকার কতৃক নির্ধারণ এবং তদারকির ব্যাবস্থা করতে হবে।
৯। স্বাস্থ্য খাতে সরকারকে পরামর্শ দেয়ার জন্য একটি শক্তিশালী স্বাস্থ্য কমিশন সবসময় থাকা প্রয়োজন।
১০। সরকারি ডাক্তার/নার্স/স্টাফদের কর্মস্থলে আবাসন, নিরাপত্তা, এবং সন্তানদের সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ লেখাপড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।