বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে সরকার কী কী বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে?

বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব বর্তমানে একটি জাতীয় জরুরি অবস্থা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার বেশ কিছু বিশেষ ও “দুর্যোগকালীন” পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রধান পদক্ষেপগুলো নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:
১. টিকাদানের বয়সসীমা হ্রাস ও বিশেষ ক্যাম্পেইন: সরকার প্রচলিত টিকাদান কর্মসূচির নিয়ম পরিবর্তন করে সাময়িকভাবে হামের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়ার বয়স ৯ মাস থেকে কমিয়ে ৬ মাস নির্ধারণ করেছে । এই বিশেষ পদক্ষেপের আওতায় আগামী জুন মাস থেকে একটি দেশব্যাপী বড় ধরনের ক্যাম্পেইন শুরু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার লক্ষ্য ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকা দেওয়া । আগামী রবিবার (৫ এপ্রিল ২০২৬): স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জানিয়েছেন যে, হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আগামী রবিবার (৫ এপ্রিল ২০২৬) থেকে সারা দেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (DGHS) রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার তথ্য অনুযায়ী, ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনার জন্য একটি বিশেষ ক্যাম্পেইন জুন মাসের শুরুতে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
২. জরুরি অর্থায়ন ও টিকা সংগ্রহ: হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার ৬০৪ কোটি টাকার একটি জরুরি তহবিল অনুমোদন করেছে। এই অর্থ দিয়ে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (Gavi)-এর সহায়তায় প্রায় ২ কোটি ১৯ লক্ষ ডোজ টিকা সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
৩. আধুনিক চিকিৎসা ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার: হামজনিত জটিলতা, বিশেষ করে শিশুদের নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকার ‘বাবল সিপ্যাপ’ (bubble CPAP) ব্যবহারের বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু করেছে। এছাড়া হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ (ICU) সুবিধা বৃদ্ধি এবং রাজশাহী ও মানিকগঞ্জের মতো জেলাগুলোতে ভেন্টিলেটরের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
৪. জনস্বাস্থ্য কর্মীদের সংকট সমাধান: টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে সরকার স্বাস্থ্যকর্মীদের পূর্ণ সহযোগিতা চেয়েছে। প্রায় ১,৩০৬ জন স্বাস্থ্য সহকারীর বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং ২৫,০০০ এরও বেশি কর্মীর আটকে থাকা পদোন্নতির সমস্যা দ্রুত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এই জাতীয় সংকটে স্বাস্থ্যকর্মীদের মনোবল ধরে রাখতে এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৫. নজরদারি ও সচেতনতা বৃদ্ধি: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী সরকার হামের প্রাদুর্ভাব শনাক্ত করতে নজরদারি জোরদার করেছে। আক্রান্ত এলাকায় দ্রুত টিকা পৌঁছে দেওয়া, শিশুদের ভিটামিন-এ ক্যাপসুল প্রদান এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও এই পদক্ষেপের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও সংক্রমণের বিস্তার রোধে কিছু ক্ষেত্রে স্কুল বন্ধ রাখার দাবি ও আইনি পদক্ষেপের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
(সূত্র তথ্যসমূহ: Dhaka Tribune; 30-March-2026, The Bangladesh Today; 02-April-2026, Prothom Alo; 02-April-2026, Dhaka Tribune; 02-April-2026)

আপনার চিন্তাগুলোকে ছোট বা মাঝারি আকারে লিখে পাঠান। আপনি ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপ বা এ ধরণের গ্রুপে যে কথাগুলো লিখছেন সেগুলোর একটি কপি আমাদের কাছেও পাঠান। আমরা সেগুলো সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেবো। মতামত গড়ে তুলবো। ইমেইল (ajss@hdonline.net) বা এই লিংকে ক্লিক করে লেখা পাঠাতে পারেন।

Leave a Comment